আওয়ামী লীগের ইশতেহারে প্রাধান্য পেলো আধুনিক প্রযুক্তি ও যান্ত্রিকীকরণ
‘উন্নয়ন দৃশ্যমান, বাড়বে এবার কর্মসংস্থান’ স্লোগানে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা এবং লাভজনক কৃষির লক্ষ্যে সমন্বিত কৃষিব্যবস্থা, যান্ত্রিকীকরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ ১১টি বিষয়ে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দলীয় ইশতেহার ঘোষণা করলো ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ইশতেহারে আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তিন মেয়াদের অর্জন এবং আগামী মেয়াদে ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নয়নে তাদের কর্মপরিকল্পননা তুলে ধরা হয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের শাসনামলকে ‘উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে বিশ্বের বিস্ময় বাংলাদেশ’ বলা হয়েছে। এতে বাণিজ্যিক কৃষি, জৈব প্রযুক্তি, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, রোবটিক, আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স ও ন্যানো টেকনলোজিসহ গ্রামীণ অকৃষি খাতের উন্নয়নে উপযুক্ত কর্মকৌশল গ্রহণের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁও হোটেলে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহ স্লাইডে তিনি জানালেন, এখন দেশে ১৪টি আইপি টিভি, ১৮৫টি অনলাইন নিউজপোর্টাল, ১৮২টি পত্রিকার অনলাইন ভার্সন রয়েছে। সাংবাদিকদের নির্যতন ও ভয় ভীতি মুক্ত করতে ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ অনুযায়ী, ব্যক্তির গোপনীয়তা ও তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। অপব্যবহার রোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে র যুগে বিশ্বপ্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রযুক্তির সক্ষমতা একান্ত ভাবে প্রয়োজন। বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকবে না। এজন্য আমরা স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট সরকার, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সমাজ এর সমন্বয়ে আমরা কাজ করছি। ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে স্মার্ট সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলবো। এছাড়াও জনবান্ধন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গড়ে তুলতে অধিক ডিএনএ ও ফরেনসিক ল্যাব প্রতিষ্ঠা, তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর দুর্নীতি মুক্ত জনকল্যাণমুখী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এ সময় শেখ হাসিনা প্রতিটি খাতভিত্তিক ২০০৬ সালের সঙ্গে বর্তমানের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক ড. আব্দুর রাজ্জাক বক্তব্য রাখেন। দলের সিনিয়র নেতারা, কূটনৈতিক কোরের প্রতিনিধি এবং সমাজের বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
আওয়ামী লীগের এবারের ইশতেহারে ১১টি বিষয়ে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো—
১. দ্রব্যমূল্য সবার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।
২. কর্মোপযোগী শিক্ষা ও যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।
৩. আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
৪. লাভজনক কৃষির লক্ষ্যে সমন্বিত কৃষিব্যবস্থা, যান্ত্রিকীকরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বিনিয়োগ বৃদ্ধি।
৫. দৃশ্যমান অবকাঠামোর সুবিধা নিয়ে এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে শিল্পের প্রসার ঘটানো।
৬. ব্যাংকসহ আর্থিক খাতে দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
৭. নিম্ন আয়ের মানুষদের স্বাস্থ্যসেবা সুলভ করা।
৮. সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় সবাইকে যুক্ত করা।
৯. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকারিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
১০. সাম্প্রদায়িকতা এবং সব ধরনের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ রোধ করা।
১১. সর্বস্তরে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুরক্ষা ও চর্চার প্রসার ঘটানো।







